মেলা রূপ নেয় বসন্ত উৎসবে

বসন্তের প্রথম দিনে বইমেলা যেন কার্যতই বাসন্তী রঙে ছেয়ে যায়। তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী, শিশু সবার পরনে দেখা যায় বাসন্তী রঙের পোশাক। মেয়েদের মাথায় ফুলের টায়রা এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি সবখানে দেখা যায় বসন্তের রঙের ছোঁয়া।

অগণিত মানুষের উপস্থিতিতে মেলা যেন উৎসবে রূপ নেয়। এদিন হাতে হাতে শোভা পায় বই। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও বইমেলা থাকবে এমন তারুণ্যে ভরা।

বুধবার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল বসন্তের আভা। বসন্তের এ ছোঁয়া লেগেছিল স্টলগুলোতেও। বিক্রয়কর্মীরাও সেজে এসেছিলেন বসন্তের রঙের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। স্টলে স্টলে ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়।

বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ‘কবি রফিক আজাদ : শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দার। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। আলোচনায় অংশ নেন কবি অসীম সাহা, কবি ফারুক মাহমুদ ও কবি জাফর আহমদ রাশেদ।

রশীদ হায়দার বলেন, রফিক আজাদ মানেই জীবন, তারুণ্য ও সুন্দরের প্রতি পক্ষপাত। তার মতো বিশুদ্ধ কবির আবির্ভাব বাংলাদেশের কবিতার জগৎকে ঋদ্ধ করেছে। কবিসত্তার বাইরে তার ব্যক্তিসত্তাও ছিল সমান আকর্ষণীয়। ব্যক্তিগত জীবনে তার মতো দেশপ্রেমিক, বন্ধুবৎসল, উদার-মানবিক মানুষের সন্ধান পাওয়া সত্যিই কঠিন ব্যাপার।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ ও টোকন ঠাকুর। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম ও নাসিমা খান বকুল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, মিজান মাহমুদ রাজীব, ফারহানা শিরিন ও তানজিনা করিম স্বরলিপি। নৃত্য পরিবেশন করেন সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনী ঝুম্পার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন জলতরঙ্গ ডান্স কোম্পানির নৃত্যশিল্পীরা।

নতুন বই : একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৭২টি। এর মধ্যে গল্প ২৬টি, উপন্যাস ২৭টি, প্রবন্ধ ১৭টি, কবিতা ৬৩টি, ছড়া দুটি, শিশুসাহিত্য সাতটি, জীবনী তিনটি, মুক্তিযুদ্ধ দুটি, নাটক একটি, বিজ্ঞান একটি, ভ্রমণ চারটি, ইতিহাস দুটি, স্বাস্থ্য একটি, অনুবাদ দুটি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপরে আরও ১৪টি নতুন বই এসেছে।

উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল- সন্জীদা খাতুনের ‘নজরুল মানস’ (নবযুগ), আন্দালিব রাশদীর ‘যে রাতে আমার স্ত্রী’ (পেন্সিল), ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘সেরা গল্প’ (পাঞ্জেরী), সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘সময় বহিয়া যায়’ (কথাপ্রকাশ), শাহাদুজ্জামানের ‘গুগলগুরু’ (মাওলা ব্রাদার্স), জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ‘বাঙালি জীবনের চলাচল’ (পুঁথিনিলয়), মোহসেন আল-আরিশির ‘শেখ হাসিনা : যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ (বাংলা একাডেমি), মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘সপ্তর্ষির জন্যে কবিতা’ (বটেশ্বর বর্ণন), তাহমিনা কোরাইশির গল্পগ্রন্থ ‘আয়না’ (পারিজাত প্রকাশনী)।

আজকের আয়োজন : আজ মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রেজাউর রহমান, আবদুল কাইয়ুম ও অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন শহীদ ইকবাল, মণিকা চক্রবর্তী, সঞ্জীব পুরোহিত, ফারুক সুমন এবং আহম্মেদ শরীফ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*